কলকাতা 

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরকে হেনস্থা করার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই গ্রেফতার গিয়াস উদ্দিন মন্ডল, ভিসি ফোন করা সত্ত্বেও কেন পুলিশ যায়নি? মমতার কাছে রাজধর্ম প্রত্যাশা করে বাংলার মানুষ

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আলীকে কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ এবং খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্র নেতা গিয়াস উদ্দিন  মন্ডলকে গ্রেপ্তার করলো নিউটাউন থানার পুলিশ। উপাচার্যকে অকথ্য গালিগালাজ, খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। নিউটাউন থেকেই গ্রেফতার করা হয় গিয়াসউদ্দিনকে। নিউটাউনের দিল্লি পাবলিক স্কুলের পাশের এলাকায় একটি মেসে থাকত অভিযুক্ত এই বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা। এদিন সে মেস থেকে বাইরে বের হতেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে গিয়াসউদ্দিনের মোবাইল ফোন। এদিকে, উপাচার্যকে হেনস্থার প্রতিবাদে কাল থেকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি পড়ুয়াদের।

আনকাট ভাইরাল ভিডিও

Advertisement

 

সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ঘরে ঢুকে উপাচার্যকে তুই তোকারি করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন বহিষ্কৃত ছাত্র নেতার। অভিযুক্ত টিএমসিপির প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্ট গিয়াসুদ্দিন মণ্ডল। ভাইরাল ভিডিওতে উপাচার্যকে লক্ষ্য করে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘এবার ডাক, এখান থেকে ফোন কর, এই আলিয়ার বেহাল অবস্থা কে করেছে? আলিয়ার বেহাল অবস্থা করার জন্য তুই….’। দেওয়া হয় খুনেও হুমকিও! TMCP-র প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্টের মুখের ভাষা এতটাই অশালীন, যে তা প্রকাশের অযোগ্য। ঘটনাটি ঘটেছে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। বহিষ্কৃত ছাত্রনেতার হুমকি ও অশালীন ভাষার মুখে উপাচার্য মহম্মদ আলি। ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্ত বলতে শোনা যায়, ‘না হলে দুটো গালে চড়িয়ে দেব। বাঁদর চড়ানো। আমার চড় প্রচুর লাগে। যে ক’টা তোর ছেলে আছে জিজ্ঞেস করবি।’

আনকাট ভাইরাল ভিডিও :

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, তোলাবাজি, ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা তৈরি সহ একাধিক অভিযোগে কিছুদিন আগে বহিষ্কার করা হয় গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল নামে ওই ছাত্রনেতাকে। বহিষ্কারের কয়েক দিনের মধ্যেই ৩ বহিরাগতকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকেন তিনি। পিএচডি লিস্টে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে ঘেরাও করেন উপাচার্যকে। শুরু হয় তাণ্ডব, অকথ্য ভাষায় গালাগালি, হুমকি। ভাইরাল ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, ‘আপনাকে আমি ফোন করলাম, সেই সময় যে আমার ছেলেপিলেগুলো সাসপেন্ড রাস্টিকেট হয়েছে স্যর। এই আমি বেশি কথা বলতে চাই না তোমার সঙ্গে। আজকে আপনি শুনছেন। আপনি আমাকে চেনেনই না ঠিক মতো? বলে যায়নি ঠিকভাবে।’

যে ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আর এই ঘটনার ভাইরাল ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

আনকাট ভাইরাল ভিডিও

 

প্রশ্ন উঠেছে স্বাভাবিক নিয়মেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হেনস্থা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গিয়াস উদ্দিন মন্ডল কে। কিন্তু উপাচার্যকে যখন হেনস্থা করা হয় সেই সময় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পুলিশের সাহায্য চেয়ে ছিলেন। কোন কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে চাইনি তাই স্পষ্ট করুক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষ জানতে চাই গিয়াস উদ্দিন মন্ডল নামে ছেলেটি পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের মধ্যে রয়েছে তা সামনে আনা হোক।

শুধু গিয়াস উদ্দিন মন্ডল কে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাকে যারা জিইয়ে রেখেছে তাদেরকে সামনে আনতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্রশাসনিক কর্তা হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি তিনি রাজ ধর্ম পালন করবেন দুধ কা দুধ পানি কা পানি করে দেবেন।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ